উস্টকা ডায়েরী দ্বিতীয় পাতা

পোল্যান্ডে আমার স্টুডিওর কিছু স্থিরচিত্র। স্টুডিও একতলাতে। এছাড়াও আছে বড়ো একটা কম্পিউটার ল্যাব। দোতলাতে শিল্পীদের থাকার ব্যবস্থা। সাজানো গোছানো সুদৃশ রান্নাঘর ও খাবার জায়গা। আর তিনতলা তে বিশাল আর্ট গ্যালারি। দোতলাতেও একটা ছোট গ্যালারি আছে অতিথী শিল্পীদের কথা ভেবে। এক কথায় সুবিশাল এই বাড়ী। বাড়িয়ে বলছিনা...… ছোট বড় মেজ সেজ মিলিয়ে ঘরের সংখ্যা নেহাত ত্রিশের কম নয়। ঝক-ঝকে তক-তকে। এত বড় সাজানো গোছানো পরিষ্কার বাড়িতে প্রতি মুহুর্তে বেশ সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে হয়, বিশেষ করে রান্নাঘর ব্যাবহারের ক্ষেত্রে। একজন অতি বিত্তশালী লোকের বাড়িতে আচমকা গিয়ে পড়লে আমাদের মতো ছাপোষা অগোছালো মানুষদের যেমনটা হয়ে থাকে। বাড়ির সামনে সুন্দর বাগান। বাহারী ফুল, বসার ব্যাবস্থা। আর সমুদ্র তো ঢিল ছোড়া দূরত্বে মাত্র। নানা-বিধ চটজলদি খাবারের দোকান সেখানে। তার মধ্যে যদিও আইসক্রিমের দোকান সিংহভাগ। 'Soprano' নামে এক ইতালিয়ান আইসক্রিম এখানে বেশ জনপ্রিয়। সে দোকানে বাচ্চা-বুড়ো, প্রেমিক- প্রেমিকা থেকে শুরু করে সব্বার আইসক্রিম কেনার দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে সব সময়। আর শনি- রবিতে এখানে ভিড় বহুগুন বেড়ে যায়। খুব কাছের শহর 'স্লুপ্সক' থেকে অনেকেই গাড়ি হাঁকিয়ে পরিবার নিয়ে এখানে চলে আসে ছুটি ছাটার দিন গুলিতে। গাড়ির মাথাতে ছোট নৌকাও বাঁধা থাকে অনেক সময়, নয় তো বা সমুদ্রে এডভেনচার স্পোর্টসের সরঞ্জাম।

দিন দুয়েক আগে এখানে একটা অদ্ভুত জিনিস দেখলাম। অদ্ভুত হয়তো বলা ভুল। খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। কিন্তু আমার বেশ অন্যরকম ঠেকেছে। আসলে আমি এরকম দৃশ্য সচরাচর কেন.....বলতে গেলে কোনো দিনই দেখিনি। না আমি কোনো প্রেমিক প্রেমিকাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের চুম্বন দৃশ্যের কথা বলছি না। দেখলাম.....এক অতি বয়স্ক দম্পতি মুখ-মুখী বসে, বেশ নিশ্চিন্তে রসিয়ে দুজনে আইসক্রিমকোন খাচ্ছে। দুজনের অবশ্য আলাদা আলাদা আইসক্রীম। এ দৃশ্য আমাদের কলকাতাতে আমি কখনো দেখিনি। অতি বয়স্ক দম্পতি পার্কে দেখেছি, তারা হয়তো বাড়িতে আইসক্রিম খেয়েও থাকতে পারে। কিন্তু পার্কে বসে আইসক্রীম খাবার জন্যই খাচ্ছে, এমনটা দেখিনি। তাও কাছে পিঠে যদি তাদের ছোট নাতি নাতনী থাকতো। বুঝতাম তাদের আপদার মিটাতে গিয়ে, তাদের পাল্লায় পড়ে তাঁরাও খাচ্ছে। কিন্তু আমি বহুক্ষণ খেয়াল করেও, তাদের ত্রি-সীমানায় কোনো শিশুকে ঘেঁষতে দেখিনি।

 

ওহ হ্যা আজ 'Soprano' আইসক্রিম কিনে খেলাম। যথারীতি দোকানের সামনে জনা পনেরো লোকের লাইনে দাঁড়িয়ে। সেই আগেকার দিনে ইলেকট্রিক বিল জমা দিতে গেলে যেমন হতো। গুটি গুটি পায়ে কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সত্যি বলতে এত লোক আর ওই অতিবয়স্ক দম্পতি ও খাচ্ছে দেখে, মনে হয়েছিল না-জানি-কি। তাই ভাবলাম একবার খেয়েই দ্যাখা যাক। কিন্তু আমি হতাশ। আমার একদমই ভালো লাগেনি। ভালো না লাগার অন্যতম কারণ অতিরক্ত মিষ্টি। হয়তো এত মিষ্টি বলেই ওই বয়স্ক মানুষ দুজন এই আইসক্রীম খাচ্ছিল। বয়স বাড়লে অনেকেরই একটা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি লোভ জন্মায়। বরং আমাদের কলকাতার ওই থার্মোকল এর বক্সে বিক্রি হওয়া রঙ্গিন কাঠিগোজা আইসক্রিম, খেয়ে মজা। অবশ্য অন্যদের ভালো লাগতেই পারে। হয়তো আমারও লাগবে বয়স আরো বাড়লে। আরো বিশেষ করে, আমি হলাম সেই ধরণের মানুষ যাকে 'ম্যাক ডোনাল্ডস' বা 'কে.এফ.সি' তে কেউ নিজের পয়সাতে খাওয়াতে চাইলেও আমি তাকে বলি, ওখানে নয় তার চেয়ে বরং যেখানে গরম গরম ডালদায় ভাজা হিং এর কচুরি বিক্রী হয় সেরকম কোনো দোকানে যাবো। শাল পাতাতে গরম ধোয়া ওঠা কচুরি, বেঞ্চ পেতে। টাকার প্রশ্ন নয়। স্বাদের প্রশ্ন। আজ যদি কোনো বিচিত্র কারণে চারটে কচুরি আর সঙ্গের তরকারি আড়াইশো টাকাও হয়ে যায়। আমি তাহলেও খাবো।

 

 

 

কৌশিক গুপ্ত

১৫ জুলাই, ২০১৯

উস্টকা

Ustka Diary Page 2

My Artist Residency in Poland is a huge three storey house. The studio is on the ground floor and we live on the first floor. There is a very big art gallery on the second floor of this house and smaller gallery on the first floor too, especially dedicated to the guest artists who used to come here from overseas.

On the ground floor there is also a big computer lab, and just above it there is a well furnished kitchen and dining space where I used to cook at times. The house has almost thirty rooms! The rooms are well furnished and neatly maintained, plus there is a huge backgarden with beautiful green lawn and benches. The sea is at a stone’s throw distance making my stay much more interesting.

It’s a wonderful accommodation provided by the facilitator. Belonging from a moderate financial background and staying at this huge place makes me quite conscious of my simple life.

The sea side is dotted with food stalls selling various mouth-watering delicacies, among them the most popular is an Italian ice-cream called 'soprano’. It is equally loved by old and young, all of them make line in front of these ice-cream stalls. During weekends the sea side gets over crowded with people streaming from a nearby town called Slupsk. They come here in cars loaded with small boats and water sports gears.

Two days back I noticed a strange incident, which was not unexpected in these part of the world, however for me it was an unique experience which is unthinkable in my city or country for that matter. I saw a very old couple sitting together and having ice-cream! The ice-creams were of different flavours. Not only they were having ice-creams but they were enjoying each others' company. A rare sight, infact I have never seen it in my life. I have seen very old couple in parks, who might have had ice-creams at home. I was looking for grandchildren insistance along with them at park. However I observed them for some time but didn’t find any children around them. Probably they were having ice-creams for the sake of enjoying ice-creams and life as well.

Impressed by the popularity of Soprano ice-cream I decided to try it. As usual after standing in the queue with fifteen people before me desperately waiting for my turn I felt I am in India waiting in queue to pay my electricity bill at the bill payment office.

My expectations came crashing down when I tasted the Soprano ice-cream. UnfortunateIy they were to sweet for my taste. Then it dawned on me, these old couple enjoyed soprano because at old age people tend to develop sweet cravings and Soprano ice-cream fits the bill perfectly.

Well for me, the ideal ice-cream is orange flavoured lollies, sold in thermocol boxes in India. They are tangy and way less sweeter. Others may like soprano, I too may develop a liking for sweet soprano when I am older.

I am a person who finds joy in simple things. Given any day if I get treated food at MacDonald or KFC, I would rather tread it for fresh and hot dalda fried asafoetida mixed fried flat breads (hinger kochuri). I would love to have these delicacies wrapped in organic plates made of sal leaves and sit in an open bench to have it. For me; money is not a priority , taste and comfort is. If due to some unexplained reason the price of these simple condiments reach sky high in my country even then I would buy and eat, I would not compromise the familiarity of taste with money.


 

 

Author: Kaushik Gupta (Originally written in Bengali)

English Translation: Ms Debaroti Sarkar

Ustka Diary Page 2

Przez ostatni miesiąc przebywam w Ustce, w północno-zachodniej Polsce, na programie rezydencji artystycznej. Podczas mojego pobytu odnotowałem swoje doświadczenia związane z Ustką, oto kilka fragmentów z moich podróży:

Dzisiaj poszedłem w innym kierunku, odbiłem od morza i próbowałem zwiedzić miasto. Chociaż był już wieczór, miasto było oświetlone przez słońce prawie tak, jakby to było po południe w Indiach. Miasto jest prawie jak Kalyani (podmiejska dzielnica Bengalu Zachodniego), idealne domy z dobrze zaplanowanymi drogami. Chociaż jest jeden dziwny aspekt - tutaj drogi są prawie puste, cały zgiełk jest nad morzem. Zaledwie dziesięć minut od morza drogi wydają się prawie puste, a budynki niezamieszkane. Jest to małe miejsce, w którym nie można się zgubić, które nie wymaga mapy Google. Wszystkie drogi prowadzą do morza i łatwo je znaleźć.

Kiedy zamyślony szedłem przez miasto, które wygląda jak z pocztówki- spokojne i pogodne, zastanawiałem się czy ludzie mieszkający w tych domach nigdy nie przechodzą kryzysów, chaosu, zmagań i nie cierpią z powodu braku czasu w swoim codziennym życiu? Nagle zobaczyłem samochód mijający mnie i zatrzymałem się przy jednym z tych pięknych domów. Starszy człowiek i mężczyzna w średnim wieku wysiedli z samochodu, wyglądali znajomo, podszedłem do nich i powiedziałem „dobry wieczór”, mężczyzna w średnim wieku odpowiedział „miyo me” co oznacza „miło mi”.

Potem uświadomiłem sobie, że widziałem ich przy stoisku z tureckim jedzeniem - kababem na plaży. To było dziwne, ponieważ większość straganów na plaży sprzedawała lody, ale ten stragan wyróżniał się od innych i wyglądał tam niespotykanie. Mają polskie menu napisane odręcznie ołówkiem, którego nie mogłem rozszyfrować. Byłem zdezorientwany, czy zamówić coś od nich, czy nie, dlatego właśnie zapytałem o cenę, a potem pomyślałem, że jeśli będą nakładali coś, czego nie chciałbym wypróbować, to byłoby to marnotrastwo. Pomyślałem sobie: „Jestem tu od miesiąca i mógłbym skosztować tego później”.

To, co mnie zafascynowało, to ironiczna odpowiedź na moje pytanie, które napływało mi do głowy. Myślałem że żyją tutaj ludzie dość bezstresowo, ale wydaje się, że się myliłem, oni też są zajęci, tak jak ja pracujący od świtu do zmierzchu.


 

Author: Kaushik Gupta (Originally written in Bengali)

Polish Translation: Ms Martyna Chimel & Ms Sylwia Starkowska

​​

  • Facebook
  • Vkontakte
  • instagram
  • Twitter
  • Tumblr